নিম্ন রক্তচাপ কেন হয়, লক্ষণ এবং প্রতিকার
নিম্ন রক্তচাপ কি ?
একটি সুস্থ রক্তচাপ , বেশির ভাগ ব্যক্তির মধ্যে ১২০/৮০ (সিস্টোলিক/ডায়াস্টোলিক) MmHG এর কম এবং MmHg এর বেশি বলে মনে করা হয় । এই সীমার ওপরে যে কোনো রক্তচাপ উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এই সীমার নিচে হলে নিম্নরক্তচাপঃ হিসেবে বিবেচিত হয় ।
নিম্ন রক্তচাপ কেন হয় ?
রক্তচাপ মাপার সময় আমরা দুইটা পরিমাপ দেখি । উপরেরটা হলো সিস্টোলিক রক্তচাপ র নিচের তা হলো ডায়াস্ট্রোলিক রক্তচাপ । সিস্টোলিক ১২০ মিলিমিটার এর কম আর ডায়াস্ট্রোলিক ৮০ মিলিমিটার এর কম থাকা উচিত , এটাই রক্তচাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা । পেসার যদি খুব বেশি নেমে যাই তাহলে মস্তিস্ক , কিডনি ও হৃৎপিণ্ডে সঠিকভাৰে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না । ফলে অসুস্থতা দেখা দেয় । তাই লো পেসার হলে বাড়িতেই কিছু পার্থমিক চিকিৎসা নেওয়া । আমাদের শরীর এর জন্য উচ্চ রক্তচাপ এর মতো নিম্ন রক্তচাপ অর্থাৎ লো ব্লাড পেসার ও ক্ষতিকর । অতিরিক্ত দুরচিন্তা , পরিশ্রম ,ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড পেসার হতে পারে ।
কিন্তু কত কম পযন্ত স্বাভাবিক ?
আসলে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদ এর কম অথবা ডায়াস্টোলিক ৬০ মিলিমিটার এর কম না হলে নিম্ন রক্তচাপ বা লো পেসার বলা হয় না । তার মানে ৯০/৬০ মিলিমিটার পারদ থেকে ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ পযন্ত মাত্রা হলো স্বাভাবিক । কিন্তু অনেকে সামান্য কম দেখলেই তাকে নিম্নরক্তচাপঃ বা “‘লো পেসার ভাবেন সেটা ঠিক নয় । দিনের বিভিন্ন সময় আমাদের রক্তচাপ তারতম্য হয় । হাঁটাচলা , ব্যায়াম , পরিশ্রম , পানিশূন্যতা , বিশ্রাম বা ঘুম অনেক কিছুর
সঙ্গে রক্তচাপ এর সম্পর্ক রয়েছে । দীর্ঘ সময় দাঁড়ানো বা শোয়া বা বসে থাকা ও রক্তচাপ এর ওপর প্রভাব পরে । মধ্যরাতে ঘুমের মর্ধ রক্তচাপ কম থাকে । বাড়তে শুরু করে ভোর বেলা থেকে । দুফুর ও বিকেলে সর্বোচ্চ পৌঁছে সন্ধ্যা থেকে কমতে শুরু করে । এই উঠানামা সাধারণত সিস্টোলিকের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং ডায়াস্টোলিকের ৫ থেকে ১০ মিলিমিটার এর মধ্যে থাকে । তাই বিভিন্ন সময় পরিমাপ এইদিক – ওদিক হওয়া স্বাভাবিক ।
নিম্ন রক্তচাপ তক্কো রক্তচাপ এর মতো কোনো রোগ নয় । নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে অন্য কোনো রোগ এর উপসর্গ । তাই কারো নিম্ন রক্তচাপ হলে (৯০/৬০ মিমি পারদ কম ) তার সঠিক কারণ বের করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।
নিম্ন রক্তচাপ এর লক্ষণ ?
লক্ষণ :
- মাথা ঘুরানো , মাথা হালকা ভাব লাগা , মাথা ঘুরিয়ে পরে যাওয়া ।
- বমি ভাব , কক্ষে ঝাপসা দেখা ।
- মাত্রাতিরিক্ত পিপাসা , হাত পা ঠান্ডা হৈয়ে যাওয়া ।
- ক্লান্তিবোধ
- শুয়া বা বসা থেকে উঠতে গেলে মাথা ঘুরে যাওয়া ।
তবে উপরোক্ত লক্ষণগুলো সব সময় লো ব্লাড পেসার বা নিম্ন রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে হবে তা কিন্তু না অন্য কোনো রোগ এর কারণে ও হতে পারে ।
কারণ
- ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা হলে।
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
- অত্যধিক সূর্যতাপে পানিশূন্যতা হলে।
- উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় ওষুধ সেবন।
- ডায়ইউরেটিকস সেবন।
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর।
- গর্ভাবস্থা।
- মারাত্মক ইনফেকশন বা সেপটিসেমিয়া।
- অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা।
হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে
কম রক্তচাপ কোনো অসুখের উপসর্গ হলে, হঠাৎ তা দেখা দিতে পারে। এ সময় নাড়ির গতি বা পালস স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতির হয় এবং রোগীর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। এটি শকের লক্ষণ। নানা কারণে রোগী শকে যেতে পারে। ডায়রিয়া, বমি, রক্তক্ষরণ, রক্তশূন্যতা, পানিশূন্যতা, ইনফেকশন এবং হৃদ্রোগে হঠাৎ নিম্ন রক্তচাপ থেকে শকের ঘটনা
রক্তচাপ কমলে করণীয়
অনেকেরই রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে একটু কমের দিকে থাকে। এতে তাঁদের কোনো সমস্যা হয় না। এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা অনেক সময় স্বাভাবিক বা একটু কমের দিকে রক্তচাপ পেলে ভয়ে ওষুধ বন্ধ করে দেন। এটাও ঠিক না। দরকার হলে ওষুধ বা এর মাত্রা পরিবর্তন করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না। তবে রক্তচাপ বেশি কমে গিয়ে কারও সমস্যা হলে বা কোনো উপসর্গ দেখা দিলে, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা নিতে হবে। রক্তচাপ খুব বেশি কমে গেলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃৎপিণ্ড রক্তস্বল্পতায় ভুগতে পারে এবং তা থেকে এসব অঙ্গের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পানি :
লো ব্লাড প্রেশারের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের বেশি বেশি পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি শরীরের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা ঠিক রাখে।
ফলের রস :
বেশি পানি খেতে সমস্যা হলে ফলের রস এর কার্যকর ব্যতিক্রম। তবে স্যুপজাতীয় খাবারও খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটানো যাবে। খেয়াল রাখতে হবে শরীর যেন কোনোভাবেই ডিহাইড্রেশনের কবলে না পড়ে।
তুলসীপাতা :
হঠাৎ যাদের ব্লাড প্রেশার কমে যাওয়ার সমস্যা আছে তাদের জন্য উত্তম পথ্য হলো- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ৫ থেকে ৭টি তুলসীপাতা চিবানো। তুলসীপাতায় উচ্চমাত্রায় পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক। এ ছাড়া এতে ইউজিনোল নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায়।
ডায়েট প্ল্যান :
লো ব্লাড প্রেশারের রোগীদের সঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করা সবচেয়ে জরুরি। ভারী খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৩ বার ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে পাঁচবার অল্প অল্প করে খাওয়া বেশি উপকারী।
বাদাম :
প্রেশার কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৫ থেকে ৬টি কাঠবাদাম খেয়ে নিন। কাঠবাদাম না থাকলে ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদামও খেতে পারেন। বাদাম প্রেশার বাড়াতে সহায়তা করে।
ডিম :
দ্রুত ব্লাড প্রেশার বাড়াতে ডিম অনেক কার্যকর। একসঙ্গে দুটি ডিম খেয়ে নিলে হারানো প্রেশার ফিরে পাওয়া যাবে।

